একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দক্ষিণ এশিয়ায় পতাকা বদলালেও শাসনব্যবস্থার মৌলিক রূপ বদলায়নি। দেশভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান ও ভারতের জন্ম এবং পরবর্তী সময়ে অঞ্চলের মানচিত্র ও রাজনীতির পরিবর্তন সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ঔপনিবেশিক প্রতিষ্ঠান অক্ষত থেকেছে বলে লেখক দাবি করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, ক্ষমতা দেশীয় অভিজাতদের হাতে যাওয়ার পরও সাধারণ মানুষ নিজেদের শাসন করতে না পারলে স্বাধীনতা কতটা অর্থবহ।
নিবন্ধটির মূল আলোচ্য পুলিশব্যবস্থা। এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতের পুলিশ সার্ভিসের আইনি ভিত্তি প্রধানত ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন। পাকিস্তান ও ভারতে আইনটির সংস্কার হলেও বাংলাদেশে এটি এখনো কার্যকর। লেখকের মতে, আইনটি জনসেবা বা নিরাপত্তার বদলে নিয়ন্ত্রণ ও শাসনের উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল এবং এতে আনুগত্য, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিবন্ধে আইনটির ৩ ও ১২ নম্বর ধারা উল্লেখ করে পুলিশের ওপর সরকারের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। লেখক মনে করেন, আমলাতন্ত্র, সামরিক বাহিনী ও বিচারব্যবস্থাতেও একই ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার রয়েছে। তিনি রাষ্ট্রশিল্প, জবাবদিহিতা এবং শাসনচিন্তা ঔপনিবেশিকতার বাইরে কতটা যেতে পেরেছে, তা নিয়ে গভীর পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
মতামত নিবন্ধে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রে ঔপনিবেশিক শাসনকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।