নদী, সমুদ্রবন্দর, বনজ সম্পদ ও দক্ষ কারিগরকে ভিত্তি করে বাংলায় একসময় সমৃদ্ধ জাহাজ নির্মাণ শিল্প গড়ে উঠেছিল বলে উৎসে উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপের কারিগরদের তৈরি জাহাজ বাংলার নদীপথ ও বঙ্গোপসাগরের বাইরে ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যপথ ধরে পশ্চিম এশিয়াতেও পরিচিতি পায়। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার শাখা-প্রশাখা যোগাযোগ ও বাণিজ্য সহজ করত, আর বনাঞ্চলের টেকসই কাঠ ছিল নির্মাণের প্রধান কাঁচামাল।
উৎসে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতার বিবরণকে বাংলার বাণিজ্যিক ও নৌ-অর্থনৈতিক গুরুত্বের সাক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ১৩৪৬ সালের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছান। ভেনিসীয় বণিক সিজার ফেদেরিচি ১৫৬৭ সালে সাতগাঁওয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বড় ও ছোট জাহাজের কথা লেখেন। ১৫৬৯ সালে তিনি চট্টগ্রামকে ‘The Great Port of Bengala’ বলেন এবং সেখানে ১৮টি পর্তুগিজ জাহাজ থাকার কথা জানান।
১৭ শতকের একটি তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের নির্মাণকেন্দ্রে উসমানি সুলতানের জন্য যুদ্ধজাহাজ তৈরি হয়েছিল। শিল্পটির সঙ্গে কাঠমিস্ত্রি, কামার, দড়ি ও পাল নির্মাতা, কাঠ সংগ্রাহক, পরিবহনকর্মী এবং মেরামতকর্মীরা যুক্ত ছিলেন। ১৬ ও ১৭ শতকে বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ২৫০ টনে পৌঁছেছিল বলে অনুমান করা হয়।
বাংলার জাহাজশিল্প আঞ্চলিক বাণিজ্যপথে ভূমিকা রাখে এবং উসমানি যুদ্ধজাহাজও নির্মাণ করে
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।