টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০টি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এবারের বর্ষা গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে অস্বাভাবিক, যা ১৯৮৩ সালের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
দুর্যোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত, বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নৌযান ও বিমান সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১৩ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়বে, তাই দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
অভূতপূর্ব বর্ষণে বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।