ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। মহারাষ্ট্র পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ২৯টি ঘটনায় বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক সমস্যা ও ঋণের কথাও উঠে এসেছে। পুলিশ বলছে, এসব ঘটনায় বিয়ে করতে না পারাই একমাত্র কারণ ছিল বলে তারা মনে করে না।
গ্রামাঞ্চলের সাক্ষাৎকার ও গবেষণায় দেখা গেছে, বিয়ের প্রশ্নে চাকরি, জমি, জাতি, পারিবারিক দায়িত্ব, অভিবাসন, নারীদের বদলে যাওয়া প্রত্যাশা এবং পুরুষদের সামাজিক চাপ ভূমিকা রাখছে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের এনএফএইচএস-৫ অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ১১ শতাংশ এবং পুরুষদের ৩০ শতাংশ অবিবাহিত ছিলেন। গবেষকদের মতে, গ্রামীণ বিয়ের ক্ষেত্রে জমির চেয়ে এখন নিয়মিত আয় ও চাকরি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জাতিভিত্তিক সীমাবদ্ধতা, বেকারত্ব, শিক্ষা সম্পর্কে বদলে যাওয়া ধারণা ও সামাজিক অবস্থান পছন্দের পরিধি সংকুচিত করে। কিছু পরিবার বাড়ি নির্মাণ, জমি কেনা, ঘটকের সাহায্য নেওয়া বা দূরের জেলায় পাত্রী খোঁজার চেষ্টা করছে। দর্শনা পাওয়ার বলেন, অতীতে ব্যাপক কন্যাভ্রূণ হত্যার প্রভাব এখন বিবাহযোগ্য বয়সি পুরুষদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, যদিও নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনো পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর চাপে সীমিত।
জলগাঁওয়ে ২৯ পুরুষের আত্মহত্যায় পাত্রী না পাওয়ার উল্লেখ, সঙ্গে নানা সামাজিক-অর্থনৈতিক চাপ
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।