অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত অধস্তন আদালতের কর্মচারী নিয়োগবিধি বাতিল করে আবার জেলা কমিটির মাধ্যমে আগের নিয়োগপ্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতির নতুন বিধিমালার প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে সম্মতি পেলে সরকার সেটিকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেবে। অন্তর্বর্তী বিধিতে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের, বিজেএসসির।
গত বছরের অক্টোবরে প্রজ্ঞাপিত ওই বিধিতে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিজেএসসির প্রার্থী বাছাইয়ের কথা ছিল। পরে জেলা জজ কমিশনের পাঠানো তালিকা থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করতেন। বিজেএসসি জানায়, তারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে এবং তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শত শত শূন্যপদ পূরণে বিজেএসসির ধীরগতির কারণে বিধি পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে জেলা-ভিত্তিক নিয়োগে দুর্নীতি, ঘুষ ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। বিচার বিভাগসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পুরোনো ব্যবস্থা ফিরলে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন উপেক্ষিত হয়ে আবার অনিয়ম বাড়তে পারে। অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. শাহজাহান সাজু বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ফেরা মেধাবীদের মূল্যায়ন না করার শামিল।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।