মৃত্যু, নিখোঁজ, নির্যাতন ও জিম্মি করে অর্থ আদায়ের ঝুঁকি জেনেও বাংলাদেশি তরুণদের লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি বা গ্রিসে অনিয়মিতভাবে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জন ছিলেন। ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে ৪২ জনকে নিয়ে যাত্রা করা একটি নৌকা বিকল ও জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে নয় বাংলাদেশিসহ ১০ জন মারা যান।
প্রায় ১০ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর যাত্রীরা ১৩ আগস্ট মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছান এবং পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। স্বজনেরা দালালদের সঙ্গে লাখ লাখ টাকার চুক্তি এবং যাত্রাপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফ্রন্টেক্সের উদ্ধৃত তথ্যে বলা হয়, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ২০ হাজার ২৫৯ বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেন। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে লিবিয়া থেকে ৪,২৪৯ জন ইতালি ও ৩,৬০৮ জন গ্রিসে গেছেন।
আইওএমের হিসাবে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত নয়টি অনিয়মিত অভিবাসনপথে অন্তত ১,৩২৯ বাংলাদেশি মারা গেছেন এবং ৮৫৯ জন নিখোঁজ হয়েছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির সচেতনতা, আইন প্রয়োগ ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, পাচারচক্রের বিরুদ্ধে উদ্যোগ এবং কয়েকটি জেলায় এক মাসের প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।