রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনে ইসরাইলের রাজনীতি ক্রমে উগ্র ইহুদি জাতীয়তাবাদের দিকে সরে গেছে। ফিলিস্তিনিদের অধিকার, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, গাজায় যুদ্ধ এবং বিচার বিভাগের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ সমাজে গভীর বিভাজন তৈরি করেছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তিনি একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হলেও, তাঁরা মূলত নেতানিয়াহুবিরোধিতায় একজোট এবং কঠোর, সামরিক শক্তিনির্ভর রাজনীতির কাঠামোর মধ্যেই রয়েছেন বলে বিশ্লেষকদের মত।
নেতানিয়াহু ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন, ২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় ছিলেন এবং ২০২২ সালে আবার দায়িত্ব নেন। তাঁর বর্তমান জোটকে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর উগ্র ইহুদিপন্থি সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৮ সালে তাঁর জোট জাতি-রাষ্ট্র আইন পাস করে, যাতে জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার শুধু ইহুদি জনগণের বলে ঘোষণা করা হয়, আরবির সরকারি মর্যাদা কমানো হয় এবং বসতি স্থাপনকে জাতীয় মূল্যবোধ বলা হয়।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের হিসাবে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ২০২৩ সালের ১ হাজার ২৯১টি থেকে ২০২৫ সালে ১ হাজার ৮৩৫টিতে পৌঁছায়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর সেখানে ইসরাইলি বাহিনী বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ৭১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাঁদের ২৩৩ জন শিশু। সাম্প্রতিক জরিপে লিকুদের সম্ভাব্য আসন ২০ থেকে ২২টি, যা ২০২২ সালের ৩২ আসনের চেয়ে কম।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।