নেপালে বুধবার ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যা দেখা দেয়, যখন হিমালয়ের একটি নদী উপত্যকা দিয়ে পানি, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোত নেমে আসে। এতে অসংখ্য বাড়িঘর, সেতু, সড়ক ও মানুষ ভেসে যায় এবং অনেকে ঘন কাদার নিচে চাপা পড়েন। বিজ্ঞানীরা ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, ভূমি থেকে হাজার হাজার ফুট ওপরে হিমবাহের একটি অংশ ও পাশের খাড়া পাহাড়ি ঢালের অংশ ভেঙে পড়ে।
ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ মিশরের প্রায় ৭০টি গিজার গ্রেট পিরামিডের সমান ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহন বাহাদুর চাঁদ বলেন, দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধি ও হিমবাহ গলার গতি বাড়ায় বিশ্বের সব হিমবাহ অঞ্চল ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় হিমালয়ের ২১০টি হিমবাহ হ্রদকে আকস্মিক বন্যার মাধ্যমে মানববসতির সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকির মানচিত্র, স্থানীয় প্রস্তুতি ও স্পষ্ট যোগাযোগ প্রাণহানি কমাতে পারে। ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্লাটেন গ্রাম ধসের নয় দিন আগে বাসিন্দা ও পশু সরিয়ে নেওয়ায় কোনো স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়নি। নেপালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য ধসের স্থান চিহ্নিত ও প্রস্তুতি পরিকল্পনায় কাজ চলছে, যদিও হিমালয়ের বিশাল এলাকায় পর্যবেক্ষণ ব্যয়বহুল ও কঠিন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।