সরকার ঘোষিত ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতালের ফার্মেসি ও বেসরকারি বাজারে দুষ্প্রাপ্য বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তিন দশক আগে নির্ধারিত দাম অপরিবর্তিত থাকায় উৎপাদনে কোম্পানিগুলোর আগ্রহ কমছে। ফলে রোগীরা প্যারাসিটামল ও অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফর্মুলেশনযুক্ত বা নতুন প্রজন্মের বেশি দামের বিকল্প ওষুধ কিনছেন। শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বাংলাদেশে ওষুধে মোট ভ্যাট প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ, যেখানে ভারতে পাঁচ শতাংশ এবং পাকিস্তানে প্রায় এক থেকে দুই শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫০০ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল উৎপাদনের লাইসেন্স প্রায় ১০০ কোম্পানির থাকলেও সারা বছর উৎপাদন করে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মিলিগ্রাম উৎপাদনের লাইসেন্স অর্ধশতাধিক কোম্পানির থাকলেও উৎপাদন করে আট থেকে ১০টি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, কমদামের অত্যাবশ্যকীয় অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্য হলে রোগীদের ব্যয় কমত এবং উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকিও কমত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. শেখ জহির রায়হান উৎপাদন বাধ্যবাধকতা তদারকি ও কাঁচামাল-জ্বালানি ব্যয় বিবেচনায় মূল্য পুনর্নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন বলেন, সহজপ্রাপ্যতা, তালিকা হালনাগাদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের আলোচনা চলছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।