২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ভারতের জরুরি অবস্থার পর সবচেয়ে হস্তক্ষেপমূলক নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবিধানিক ঐক্যমত্য উপেক্ষা করে নির্বাচনে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করেছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়, যা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। এতে মুসলিম, মতুয়া সম্প্রদায়ের হিন্দু এবং দরিদ্র শ্রেণির নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
নির্বাচন কমিশন একে ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ বললেও প্রতিবেদনে বলা হয়, এর কোনো পরিসংখ্যানগত বা আইনি ভিত্তি ছিল না। উত্তরপ্রদেশে যেখানে মাত্র ৪ জন পর্যবেক্ষক ছিলেন, সেখানে বাংলায় নিয়োগ করা হয় ৩০ জনকে, এবং দেশের মোট পুলিশ বদলির ৯৫ শতাংশ ঘটে এই রাজ্যে। প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়, যা ২০২১ সালের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিজেপি ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে প্রচারের মূল ভিত্তি করে তোলে এবং এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর পূর্ববর্তী জনতাত্ত্বিক মিশনের সঙ্গে যুক্ত।
প্রতিবেদনটি উপসংহারে জানায়, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের একটি মডেল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং এটি পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক অস্তিত্বের লড়াইয়ের প্রতীক।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।