হিমালয়ে হিমবাহ গলার গতি এক দশক আগের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে, যা ভারতের অর্থনীতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য পরিবেশগত ও দুর্যোগঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে। গ্লোবাল কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিকের প্রকাশিত গবেষণাটি ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি; এতে আইসিআইএমওডি ও জিবি পান্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান এনভায়রনমেন্টের কারিগরি সহায়তা ছিল।
গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমালয়-ক্যারাকোরাম অঞ্চলের আনুমানিক ৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণে আছে মাত্র ২১টি। ভারতের ২০২৫ সালের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে ১৮৯টি উচ্চঝুঁকির হিমবাহ হ্রদের মধ্যে ৫৬টিকে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। ২০২৩ সালে সিকিমে হিমবাহ-হ্রদের বাঁধ ভেঙে বন্যায় অন্তত ৭০ জন নিহত হন; ২০২১ সালে উত্তরাখণ্ডে একই ধরনের ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়।
গবেষণার হিসাবে, হিমালয়ের পানি ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশের ভিত্তি এবং গম, ধান, চা, জলবিদ্যুৎ ও তীর্থভিত্তিক পর্যটন এ পানির ওপর নির্ভরশীল। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক কার্বন কমানো, হিমবাহ পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতা জোরদার, পর্যটন পদ্ধতি পরিবর্তন এবং সীমান্তপারের তথ্য বিনিময় ও যৌথ দুর্যোগ বিনিয়োগ।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।