প্রবন্ধে শহীদ তিতুমীরের জীবন ও সংগ্রামের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। ১৭৮১ সালে চব্বিশ পরগনার বারাসতের চাঁদপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া সাইয়েদ নিসার আলী মীর, যিনি পরে তিতুমীর নামে পরিচিত হন, ছিলেন সাইয়েদ আহমদ শহীদের শিষ্য। ১৮২৭ সালে হজ শেষে দেশে ফিরে তিনি হায়দারপুরে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার শুরু করেন। অল্প সময়ে বহু অনুসারী তার দলে যোগ দেন এবং মুসলমান কৃষকদের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। স্থানীয় হিন্দু জমিদাররা এতে আতঙ্কিত হয়ে মুসলমান প্রজাদের ওপর ‘দাড়ি কর’সহ নানা নিপীড়ন চালায়। শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিকার ব্যর্থ হলে তিতুমীর ১৮৩১ সালে নারিকেলবেড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু করেন।
প্রথমদিকে তার বাহিনী কয়েকটি যুদ্ধে বিজয়ী হলেও ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে চূড়ান্ত যুদ্ধে তারা পরাজিত হয়। তিতুমীর ও তার সহযোদ্ধারা নিহত হন এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, আন্দোলনটি প্রথমে স্থানীয় সংস্কার প্রচেষ্টা হিসেবে শুরু হলেও পরে তা ব্রিটিশ ও জমিদার শাসনের বিরুদ্ধে গণবিদ্রোহে পরিণত হয়।
ঐতিহাসিকদের মতে, তিতুমীরের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহ বাংলার কৃষক সমাজে আত্মমর্যাদা ও ন্যায়বিচারের চেতনা জাগিয়ে তোলে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।