বাংলাদেশে গুম প্রতিরোধে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬’ গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলটি পাস হলে গুমকে আইনগত অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে শাস্তি, ভুক্তভোগী ও পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের পথ তৈরি হবে। প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবার গুমের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে; সরকারি কর্মচারী, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা সরকারের অনুমোদনে কাউকে আটক বা অপহরণের পর তার অবস্থান অস্বীকার বা গোপন রাখাকে গুম বলা হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগী মারা গেলে বা পাঁচ বছরেও খুঁজে না পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পিত গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের সুযোগও রাখা হয়েছে। আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ, ডিজিটাল সাক্ষ্য, অনুপস্থিতিতে বিচার এবং সাক্ষী ও তথ্যদাতার নিরাপত্তার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে তদন্তের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে রাখার প্রস্তাব নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের আপত্তি রয়েছে। তাদের মতে, বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে পৃথক কমিশন বা বেসামরিক প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা ভুক্তভোগীর অধিকার, ক্ষতিপূরণের স্পষ্টতা, সাক্ষী সুরক্ষা এবং ১২০ দিনের মধ্যে জটিল মামলার বিচার শেষ করার বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।