আধুনিক পণ্যের বিস্তার ও চাহিদা কমে যাওয়ায় কুমিল্লায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। ২০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়ায় অনেক মৃৎশিল্পী অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। সদর দক্ষিণের বিজয়পুর, চান্দিনার কামারখোলা, আওধাতা ও করতলা এবং দেবিদ্বারের সাইতলা, আতাপুর ও নুরিতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় একসময় বহু কুমার পরিবার মাটির তৈজসপত্র তৈরি করত; এখন হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার পেশাটি ধরে রেখেছে।
গ্রামবাংলার ঘরে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, কলস, সরা, পেয়ালা, থালা-বাটি, ব্যাংক, পুতুল ও চুলার ব্যাপক ব্যবহার ছিল। রান্না, খাবার পরিবেশন, পানি সংরক্ষণ, ঘর সাজানো এবং বিয়ে, পূজা-পার্বণসহ সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজনেও এসব পণ্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, প্লাস্টিক, মেলামাইন ও সিরামিক পণ্য সহজলভ্য হওয়ায় মাটির পণ্যের ব্যবহার ও চাহিদা কমেছে।
কারিগরদের ভাষ্য, ভালো মাটি সংগ্রহ, পণ্য তৈরি, শুকানো, নকশা ও পোড়ানোর খরচ বেড়েছে, কিন্তু বিক্রয়মূল্য উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিমাই পাল বলেন, এ কারণে অনেকে পেশা বদলেছেন। সুনীল পাল জানান, নতুন প্রজন্ম এ কাজে আগ্রহী নয় এবং কারিগর পাওয়াও কঠিন। গৌরী রাণী শর্মা বলেন, প্লাস্টিক ও স্টিলের দিকে মানুষের ঝোঁক বাড়ায় মাটির পণ্য বিক্রি করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।