বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বা অলস টাকা ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে অতিরিক্ত তারল্য দাঁড়ায় ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ। মে মাসে এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা এবং মার্চ শেষে ছিল ৩ লাখ ৭৮ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কমেছে। ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর বাড়তি সতর্কতাও বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমিয়েছে। জুনে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ, বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমেছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত অর্থ খাটাতে ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল-বন্ড, কলমানি বাজার ও অন্য ব্যাংকে আমানত রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটিতে অর্থ জমা রাখছে। ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক রেপো রেট ১০ শতাংশ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশে নামিয়েছে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বন্ধ কারখানা চালুর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো ৪১ হাজার কোটি টাকা দেবে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।