২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল প্রকাশিত ‘আমার দেশ’-এর একটি প্রবন্ধে বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সংস্কৃতি ও উৎসবের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন, জাতীয় উৎসব প্রায়ই রাষ্ট্রের মতাদর্শ প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে এবং নাগরিকদের মধ্যে ঐক্য ও পরিচয়বোধ গঠনে ভূমিকা রাখে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র কখনো উৎসবকে ব্যবহার করে ক্ষমতার বৈধতা জোরদার করতে, আবার কখনো সামাজিক সংহতি ও স্মৃতিচর্চা বজায় রাখতে।
প্রবন্ধে পহেলা বৈশাখের ঐতিহাসিক বিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে—যেভাবে এটি গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রথা থেকে শহুরে মধ্যবিত্তের অংশগ্রহণে জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন শাসনামলে উৎসবের ভেতরে ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ উপাদানের ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা এবং মতাদর্শিক প্রভাবের কথাও এতে আলোচিত হয়েছে। দুর্খেইম, টার্নার ও হবসবমের তত্ত্বের আলোকে উৎসবকে সামাজিক স্থিতি ও পরিবর্তনের উভয় মাধ্যম হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
শেষাংশে বলা হয়েছে, বৈশাখী ভাতা ও করপোরেট অংশগ্রহণ উৎসবের ব্যাপ্তি বাড়াচ্ছে। তবে উৎসবের প্রাণশক্তি তার স্বতঃস্ফূর্ততা ও অংশগ্রহণমূলক চরিত্রেই নিহিত, যা বাঙালি সংস্কৃতির বহুমাত্রিক ও পরিবর্তনশীল রূপকে প্রতিফলিত করে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।