বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নদী-নালা, খাল ও বিলে শামুক-ঝিনুকের সংকট চরমে পৌঁছানোয় ঐতিহ্যবাহী চুনশিল্পের কারিগররা দুর্দিনে পড়েছেন। একসময় শত শত পরিবার ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন পৌর এলাকার হিন্দুকান্দি গ্রামে মাত্র পাঁচটি পরিবার এই পেশায় টিকে আছে। পরিবেশ বিপর্যয় ও নদী শুকিয়ে যাওয়ায় কাঁচামালের প্রাপ্যতা কমে গেছে।
কারিগররা জানান, আগে আশপাশের নদী-নালা ও খাল থেকে নিজেরাই শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করতেন। এখন বগুড়া শহরতলির মাটিডালি এলাকা থেকে পাইকারদের কাছে প্রতি মণ শামুক-ঝিনুক ৩ হাজার ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ২০ থেকে ২৫ কেজি ঝিনুক পোড়াতে প্রায় এক মণ জ্বালানি কাঠ লাগে, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।
দুজন শ্রমিকের পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার পরিশ্রমে এক মণ চুন তৈরি হয় এবং খরচ বাদে লাভ থাকে প্রায় আড়াই হাজার টাকা। ৭০ বছর বয়সি কারিগর সুদেব চন্দ্র বলেন, এই আয়ে সংসার চলে না এবং ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে গেছে। কাঁচামাল সংকট ও লোকসানের মুখে উপজেলার দুই শতাধিক পরিবার পেশাটি ছেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেও শিল্পটি বিলুপ্তির পথে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।