২০১২ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে শি জিনপিং দল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সামরিক বাহিনী, অর্থনীতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ধীরে ধীরে নিজের কর্তৃত্ব বাড়িয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় দলীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, আনুগত্যভিত্তিক নিয়োগ, সামরিক সংস্কার, ডিজিটাল নজরদারি এবং বিস্তৃত নিরাপত্তানীতির সমন্বয়ে তিনি ক্ষমতা সংহত করছেন। ২০১৮ সালের সাংবিধানিক পরিবর্তনে প্রেসিডেন্টের মেয়াদসীমা উঠে যায় এবং ২০২২ সালের পার্টি কংগ্রেসে তিনি তৃতীয়বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য জোরদারেও ভূমিকা রেখেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের উদ্ধৃত দলীয় সূত্র বলেছে, শি ক্ষমতায় আসার পর শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংস্থাগুলো ৮১ লাখের বেশি তদন্ত করেছে এবং ৭৯ লাখের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতকে জাতীয় কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টার কথাও এতে রয়েছে।
তবে অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দিলে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ দুর্বল হতে পারে, সামরিক শুদ্ধি অভিযান অভিজ্ঞ নেতৃত্ব কমাতে পারে এবং ব্যবসা ও মতপ্রকাশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদনে বিশ্লেষকদের প্রশ্নও রয়েছে—শির ব্যক্তিগত নেতৃত্বের বাইরে এই কাঠামো কতটা কার্যকর থাকবে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।