অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক লেখায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথভাবে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বর্ণনায়, সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন সরকারি দমন-পীড়নের মধ্যে দ্রুত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের সামনের সারিতে না থাকার মধ্যেই তরুণদের আন্দোলনের শক্তি ছিল।
লেখাটিতে বলা হয়, কোটা ব্যবস্থায় প্রায় ৫৬ শতাংশ নিয়োগ বিভিন্ন কোটায় এবং ৪৪ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে হতো; আন্দোলনের দাবিতে কোটার হার ১০ শতাংশে নামানোর কথা উঠলেও শেষ পর্যন্ত তা ৭ শতাংশে নামানো হয়। ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের রাতের প্রতিবাদ আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে লেখক উল্লেখ করেন। ক্ষুব্ধ নারী সমাজের ব্যানারে নারী আন্দোলনের কর্মীরাও কর্মসূচি নেন এবং হামলার মুখেও অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখেন।
ফরিদা আখতার স্কুলছাত্রী, গৃহিণী, অভিভাবক ও স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণের নানা ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ২০২৫ সালে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হলেও ২০২৬ সালে জুলাই উদযাপন দলীয় হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এনসিপি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের রাজনৈতিক সংগঠন হলেও দলবহির্ভূত অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি দৃশ্যমান নয়। ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের কাজও আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের করতে হবে বলে তিনি মত দেন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।