২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এ টি এম জান্নাতুল মোসনাজের প্রবন্ধে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের বহু বছর পরও বাংলাদেশের নাগরিকদের একটি বড় অংশ মানসিকভাবে স্বাধীন হতে পারেনি। লেখকের মতে, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশটি এক ধরনের মানসিক উপনিবেশবাদের শিকার, যেখানে মানুষ অবচেতনভাবে বিদেশি সংস্কৃতি ও মানদণ্ডকে শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং নিজের সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করে।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এই মানসিক পরাধীনতার শিকড় ঔপনিবেশিক ইতিহাস, শিক্ষাব্যবস্থা ও বৈশ্বিক গণমাধ্যমের প্রভাবের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফ্রান্টজ ফ্যানন, ওয়াল্টার মিগ্নোলো ও এডওয়ার্ড সাইদের তত্ত্ব উদ্ধৃত করে লেখক দেখিয়েছেন, কীভাবে ভাষা, পোশাক, জীবনধারা ও মিডিয়ার মাধ্যমে বিদেশি মূল্যবোধ সমাজে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও জ্ঞানকে দ্বিতীয় শ্রেণির বলে মনে করা হয়। অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও বিদেশি জীবনধারার প্রতি অতিমাত্রায় আকর্ষণ এই মানসিক দাসত্বকে আরও গভীর করে।
লেখক মনে করেন, প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি মানসিক মুক্তিও অপরিহার্য। এজন্য শিক্ষা সংস্কার, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি নিজস্ব পরিচয় ও জ্ঞানভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।